স্টাফ রিপোর্টার:
অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষক ও বিভিন্ন মহলের দাবি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগে তড়িঘড়ি করে এই চুক্তি সম্পাদন করা হয়, যা দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের জন্য হুমকি হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক শেখ শহিদুর রহমান পাভেল অভিযোগ করেন, চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে ১৩১টি শর্তের আওতায় আনা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি শর্ত দেশের স্বাধীন বাণিজ্য নীতির পরিপন্থী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিদেশি প্রভাবের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা একসময় এই চুক্তি বাতিল বা পুনঃপর্যালোচনার দাবি তুললেও পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আর প্রকাশ্যে তেমন আলোচনা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
সমালোচকদের দাবি, চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকায় ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি পণ্য ক্রয় এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বা অনুমোদনের বিষয় উঠে এসেছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে এ নিয়ে সমালোচনা থাকলেও জাতীয় সংসদে সরকার বা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট কোনো আলোচনা বা অবস্থান দেখা যায়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে এই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি ও সরকারি ব্যাখ্যা প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক আরও বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, জাতীয় স্বার্থে চুক্তির বিস্তারিত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা এবং সংসদে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন