চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ থানার ভুক্তভোগী মিতু বেগম (৪০) দালাল ও ভুয়া এজেন্সি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তিনি তার স্বামীর পক্ষে গত ৩০ এপ্রিল হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন।
মিতু বেগমের ভাষ্যমতে, তার স্বামী মোঃ জহির কাজীকে একটি টিস্যু ফ্যাক্টরিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে দালাল চক্র ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে গত ৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়।

কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর কোনো কোম্পানি তাকে সরাসরি রিসিভ করেনি। তাকে একটি রুমে রেখে দেওয়া হয় এবং কোনো কাজ দেওয়া হয়নি। বরং পরিবার থেকে নিয়মিত টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং কাজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে উল্টো আরও টাকা দাবি করছে সৌদি আরবের দালালরা।
এই বিষয়ে মিতু বেগম অভিযুক্ত তিন দালাল—
১) তসলিম পাটোয়ারী,
২) আউয়াল পাটোয়ারী,
৩) নাহিদ (আউয়ালের ছেলে)—
এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তারা ফোন রিসিভ করছে না। বরং তারা মিতু বেগমকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তসলিম উদ্দিন (৬০), নাহিদ (৩৫), আউয়াল পাটোয়ারী (৬০) ও তাজু পাটোয়ারী (৬৫) এই চক্রের সাথে জড়িত। তাদের কাছে বিষয়টি জানালে তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং বলে যে অভিযোগ করে কোনো লাভ হবে না। উল্টো কাজ দেওয়ার কথা বলে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করছে। টাকা না দিলে জহিরকে সৌদি আরব থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতারক এজেন্সিটি একটি ভুয়া ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করছে, যেখানে এজেন্সির নাম স্পষ্ট নয়। সেখানে একটি লাইসেন্স নম্বর (০৯৬) দেওয়া আছে এবং পরিচালক হিসেবে মোঃ মোবারক নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা সন্দেহজনক।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা অসহায় অবস্থায় রয়েছে। সাংবাদিক মোহাম্মদ ইব্রাহিম হাওলাদারকে তারা জানান, তাদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ বিক্রি করে এই টাকা জোগাড় করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে—
যদি জহিরকে সৌদি আরবে প্রতিশ্রুত কাজ দিতে না পারে, তাহলে দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার কাছ থেকে নেওয়া সমস্ত টাকা ফেরত দিতে হবে। এ বিষয়ে তারা প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছে।
একই সঙ্গে তারা সমাজের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছেও সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। অন্যথায়, প্রবাসী জহিরকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
মন্তব্য করুন