মোঃ মঞ্জুর মোল্লা, নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬ মার্চ, ২০২৬
রাজবাড়ী: ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল এখন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ২৩ জনের মরদেহ শনাক্তের পর হাসপাতালের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে স্বজনদের গুমরে কাঁদা আহাজারিতে। প্রিয়জনের নিথর দেহ আঁকড়ে ধরে স্বজনদের এই বুক ফাটা আর্তনাদ দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষের চোখেও পানি আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পরিচয় মিলেছে ২৩ জনের দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের সহযোগিতায় নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতের তালিকায় শিশু থেকে শুরু করে নারী ও বৃদ্ধ রয়েছেন। শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন: রাজবাড়ী জেলার: ১. রেহেনা আক্তার (৬১), ২. জহুরা অন্তি (২৭), ৩. কাজী সাইফ (৩০), ৪. মর্জিনা আক্তার (৩২), ৫. সাফিয়া আক্তার রিন্থি (১২), ৬. ফাইজ শাহানূর (১১), ৭. তাজবিদ (৭), ৮. আরমান খান (গাড়ির চালক, ৩১), ৯. নাজমিরা ওরফে জেসমিন (৩০), ১০. লিমা আক্তার (২৬), ১১. জোস্ন্যা (৩৫), ১২. সোহা আক্তার (১১), ১৩. আব্দুর রহমান (৬), ১৪. সাবিত হাসান (৮), এবং ১৫. আহনাফ তাহমিদ খান (২৫)। কুষ্টিয়া ও অন্যান্য জেলার: ১৬. মর্জিনা খাতুন (৫৬, কুষ্টিয়া), ১৭. রাজীব বিশ্বাস (২৮, কুষ্টিয়া সদর), ১৮. ইস্রাফিল (৩, খোকসা), ১৯. আয়েশা সিদ্দিকা (১৩, খোকসা), ২০. মুক্তা খানম (৩৮, গোপালগঞ্জ), ২১. নাছিমা (৪০, দিনাজপুর), ২২. আয়েশা আক্তার সুমা (৩০, আশুলিয়া), এবং ২৩. ৭ মাস বয়সী শিশু আরমান (ঝিনাইদহ)। হৃদয়বিদারক দৃশ্য সদর হাসপাতালে সকাল থেকেই রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল চত্বরে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। একেকটি মরদেহ শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথেই আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে কান্নার রোল পড়ছে। কেউ তার সন্তানকে হারিয়েছেন, কেউ স্ত্রীকে, আবার কেউ পুরো পরিবার হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ৭ মাস বয়সী শিশু আরমান থেকে শুরু করে ৬১ বছরের রেহেনা আক্তার—কারও মৃত্যুই যেন মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্য থাকায় শোকের তীব্রতা আরও বেশি। বিশেষ করে শিশুদের নিথর দেহ দেখে উপস্থিত চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবীরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রশাসনের বক্তব্য ও সহায়তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরদেহগুলো আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফন-কাফনের জন্য প্রাথমিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং দ্রুত বাড়ি পাঠানোর সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। এমন মৃত্যু যেন আর কোনো পরিবারে না আসে, সেই প্রার্থনাই এখন সবার মুখে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মানুষ এই ট্র্যাজেডিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
মন্তব্য করুন