admin
৫ মার্চ ২০২৬, ৭:১৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

এক কেজি আলুর দামে মেলে না এক কাপ চা

এক কাপ চায়ের দাম দশ টাকা। অথচ এক কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ৯ টাকা কেজি দরে। একজন পুরুষ কৃষিশ্রমিকের মজুরি দিতে হয় ৫৫০ টাকা। এক মণ আলু বিক্রি করেও শ্রমিকের মজুরির টাকা উঠছে না। কৃষকদের প্রায় সব ধরনের ফসল আবাদে লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেক কৃষক সরকারি প্রণোদনাও পান না।

gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
চলতি মৌসুমে আবারও লোকসানের মুখে পড়েছেন আলুচাষিরা। নতুন আলু পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে প্রতি কেজি ছয় থেকে সাত টাকায়। আর খুচরাতে বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৮ থেকে ৯ টাকা। এর সঙ্গে প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত পাঁচ কেজি করে ‘ঢলন’ দিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। ফলে ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না পেয়ে চরম লোকসান গুনছেন চাষিরা।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের পাঠকপাড়া গ্রামের আলুচাষি প্রদীপ রায় বলেন, দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করে তুলনামূলক ভালো ফলন পেয়েছেন। দুই বিঘায় ৮০ থেকে ৮৫ বস্তা (প্রতি বস্তা ৬০ কেজি) আলু উৎপাদন হয়েছে। আলুর ধরন অনুযায়ী প্রতি বস্তা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতি বিঘায় ১৮ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা পাওয়া গেলেও উৎপাদন খরচ হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা। ফলে বিঘাপ্রতি লোকসান হচ্ছে ২৭ থেকে ২৮ হাজার টাকা।

সমশেরনগর এলাকার আলু চাষি সাইদুর রহমান বলেন, তিনি আড়াই বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছেন। জমি থেকে আলু উত্তোলন করতে অনেক খরচ হচ্ছে। সাত টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করেছেন। এতে তার উৎপাদন খরচও উঠছে না।

বুজরুক সমশেরনগর এলাকার আলু চাষি জয়নাল আবেদীন বলেন, আড়াই বিঘা জমিতে আলু চাষ করে বিঘাপ্রতি প্রায় ৪৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু উৎপাদিত আলু বিক্রি করে পাওয়া গেছে মাত্র ২৪ হাজার টাকা। এতে ২৭ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। আবাদ করতে গিয়ে এভাবে লোকসান হলে কৃষকদের পথে বসা ছাড়া উপায় নেই।

আলু ব্যবসায়ী জয়ন্ত সাহা বলেন, গত বছরের মতো এবারও আলু চাষে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। অনেকেই ধার-দেনা ঋণ করে জমির পরিমাণ কমিয়ে আবার আলু চাষ করেছেন। কিন্তু এবারও লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ীও আলু আবাদে অর্থ জোগান দিয়ে লোকসানে পড়েছেন।

কৃষকরা বলছেন, এখন আলু তোলা শেষ পর্যায়ে। ৮-১০ দিন আগে ফুলবাড়ীতে জমির আলু উঠতে শুরু করেছিল, তখনও বাজার দর ছিল ১২ থেকে ১৫ টাকা কেজি, যা এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, এ বছর উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমি এবং আবাদও হয়েছে সমপরিমাণ জমিতে। যার উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫,৫২০ মেট্রিক টন। তবে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ কৃষকদের চাষাবাদ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কাজ করে থাকে। বাজার দর নির্ধারণের বিষয়টি কৃষি বিপণন বিভাগ দেখভাল করে থাকে।

মন্তব্য করুন

[wpdevart_facebook_comment curent_url="https://fnewsbd.com/%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%8f/" order_type="social" title_text="" title_text_color="#000000" title_text_font_size="22" title_text_font_famely="monospace" title_text_position="left" width="100%" bg_color="#d4d4d4" animation_effect="random" count_of_comments="3" ]
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ওপর আস্থা নেই: ইরানি স্পিকার

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল

দেবিদ্বারে সরকারি ক্রীড়া সামগ্রী ছাত্রশক্তির ব্যানারে বিতরণের অভিযোগ

যেসব এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না আজ

২০২৭ সালের হজের রোডম্যাপ প্রকাশ

২০২৫ সালের তুলনায় কমেছে অপরাধের সংখ্যা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গন্ধর্বপুর প্রকল্প চালু হলে দিনে ৫০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি ঢাকায় সরবরাহ করা যাবে: মির্জা ফখরুল

সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ‘জাতির জন্য লজ্জার’: নাহিদ ইসলাম

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে ৬৫ ভাগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মুক্ত রাখা হয়েছে : তথ্যমন্ত্রী

১০

শাকিবকে নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট মিষ্টি জান্নাতের

১১

গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত কেমন হতে পারে আর্জেন্টিনার পথ

১২

জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব নাকচ পুতিনের

১৩

‘ফাটল সৃষ্টির চেষ্টা করে লাভ নেই, আমরা সবাই এক পরিবার’

১৪

ঢাকার বাতাস আজ কতটা দূষিত?

১৫

দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন

১৬

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, ভাঙারিতে বিক্রি

১৭

বিদ্যুতের দাম বাড়াল সরকার

১৮

সাবেক সংসদ সদস্য রহমতুল্লাহ আর নেই

১৯

‘এই অর্জন বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলের জন্য গৌরবের’

২০